মাসিক পঞ্জিকা পড়ার নিয়ম
উপরের ক্যালেন্ডারটি আপনার নির্বাচিত শহরের মাসিক পঞ্জিকা। প্রতিটি দিনের ঘরে সেই দিনের তিথি ও পক্ষ, নক্ষত্র, চন্দ্র রাশি এবং সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের সময় দেওয়া হয়েছে। এই সমস্ত গণনা ওই নির্দিষ্ট স্থানের সূর্যোদয়ের সময় অনুযায়ী করা হয়েছে, কারণ হিন্দু শাস্ত্র মতে দিন শুরু হয় সূর্যোদয়ের সাথে, মধ্যরাত্রিতে নয়। কোনো নির্দিষ্ট তারিখের বিস্তারিত দৈনিক পঞ্জিকা দেখতে ওই তারিখের ওপর ট্যাপ করুন, অথবা প্রতিটি অঙ্গ এবং জ্যোতিষতাত্ত্বিক খুঁটিনাটি জানতে "Detailed Panchang" লিঙ্কে ক্লিক করুন।
মাসের বিভিন্ন তিথি ও পক্ষ
একটি মাস দুটি পক্ষে বিভক্ত। অমাবস্যার পর থেকে পূর্ণিমা পর্যন্ত চন্দ্রের বৃদ্ধি ঘটে, যাকে বলা হয় শুক্লপক্ষ; আর পূর্ণিমার পর থেকে অমাবস্যা পর্যন্ত চন্দ্রের ক্ষয় ঘটে, যাকে বলা হয় কৃষ্ণপক্ষ। প্রতিটি ঘরে সূর্যোদয়ের সময় যে তিথি কার্যকর থাকে তা লেখা আছে, যাতে আপনি এক নজরেই দেখে নিতে পারেন এই মাসে একাদশী, পূর্ণিমা, অমাবস্যা, সঙ্কষ্ট চতুর্থী এবং প্রদোষ কবে পড়ছে।
দৈনিক নক্ষত্র ও চন্দ্র রাশি
তিথির পাশাপাশি, প্রতিদিন সূর্যোদয়ের সময় চন্দ্র কোন নক্ষত্রে অবস্থান করছে এবং কোন চন্দ্র রাশিতে গোচর করছে তা দেখানো হয়েছে। নক্ষত্র ও রাশি সাধারণত দিনে একবার পরিবর্তিত হয়। যাত্রা, নতুন কোনো জিনিস কেনা, নামকরণ অনুষ্ঠান বা যে কোনো শুভ কাজ শুরু করার তারিখ বেছে নেওয়ার সময় প্রথমেই এই বিষয়গুলি দেখে নেওয়া উচিত।
পঞ্চক, গণ্ডমূল এবং ভদ্র
ক্যালেন্ডারের নিচে তিনটি বিশেষ সময়ের তালিকা দেওয়া আছে যা প্রতি মাসে পুনরাবৃত্ত হয় এবং প্রথাগতভাবে কিছু নির্দিষ্ট কাজের জন্য এগুলি এড়িয়ে চলা হয়:
- পঞ্চক — যখন চন্দ্র শেষ পাঁচটি নক্ষত্রের (ধনিষ্ঠার দ্বিতীয় চার্দ্দমা থেকে রেবতী পর্যন্ত) মধ্য দিয়ে অতিক্রম করে। প্রথা অনুযায়ী এই সময়ে জ্বালানি কেনা, ছাদ নির্মাণ বা দক্ষিণ দিকে যাত্রা স্থগিত রাখা হয়।
- গণ্ডমূল — যখন চন্দ্র ছয়টি "মূল" নক্ষত্রের (অশ্বিনী, আশ্লেষা, মঘা, জ্যেষ্ঠা, মূলা, রেবতী) যেকোনো একটিতে অবস্থান করে। গণ্ডমুলে জন্ম হলে ২৭ দিন পর একটি ছোট শান্তি পুজোর বিধান থাকে।
- ভদ্র (বিশতি করণ) — এই করণটি শুভ কাজের সূচনার জন্য অশুভ বলে গণ্য করা হয়; ক্যালেন্ডারে এর শুরুর এবং শেষ সময় দেওয়া আছে।
শহর অনুযায়ী মাসিক পঞ্জিকার পার্থক্য কেন হয়?
পঞ্জিকা হলো জ্যোতির্বিদ্যার গণনা, কোনো প্রশাসনিক নিয়ম নয়। সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের সময় আপনার অক্ষাংশ এবং দ্রাঘিমাংশের ওপর নির্ভর করে এবং পঞ্জিকার প্রতিটি অঙ্গ সূর্যোদয় থেকে গণনা করা হয়। তাই একই তারিখে দিল্লি এবং চেন্নাইয়ের সূর্যোদয়ের সময় তিথিতে পার্থক্য হতে পারে এবং মাঝে মাঝে বিভিন্ন অঞ্চলে উৎসবের দিনও আলাদা হতে পারে। তাই পরিকল্পনা করার আগে সর্বদা আপনার সঠিক শহরটি নির্বাচন করুন।
মাসিক পঞ্জিকার ব্যবহার
- মাসের পরিকল্পনা করুন — একাদশী, পূর্ণিমা ও অমাবস্যার তারিখগুলো দেখে নিন এবং পঞ্চক ও ভদ্রের সময়গুলো চিহ্নিত করুন যাতে তা এড়িয়ে কাজ করা যায়।
- মুহূর্ত নির্বাচন করুন — কোনো শুভ দিন বেছে নিয়ে তার তিথি, নক্ষত্র এবং যোগ একসাথে মিলিয়ে দেখুন; তারপর ওই দিনের অশুভ সময়গুলো জানতে ছোগাদিয়া এবং হোরা চেক করুন।
- বিস্তারিত জানুন — "Detailed Panchang" লিঙ্কে ক্লিক করলে আপনার বেছে নেওয়া তারিখের পূর্ণাঙ্গ দৈনিক পঞ্জিকা দেখতে পাবেন।
এই বিষয়ে নতুন? তাহলে প্রথমে পঞ্জিকা কী এবং এর পাঁচটি অঙ্গ কীভাবে কাজ করে তা জেনে নিন, অথবা আজকের পঞ্জিকা দেখুন।