বৈদিক জ্যোতিষশাস্ত্রে গ্রহের প্রভাব

নবগ্রহ — এই নয়টি গ্রহ বৈদিক জ্যোতিষশাস্ত্রের মূল ভিত্তি। এর মধ্যে সাতটি দৃশ্যমান গ্রহ (এখানে সূর্য এবং চন্দ্রকেও গ্রহ হিসেবে গণ্য করা হয়, সাথে মঙ্গল, বুধ, বৃহস্পতি, শুক্র এবং শনি) এবং দুটি হলো চন্দ্রের ছায়া গ্রহ, অর্থাৎ রাহু এবং কেতু। একটি জন্মকুণ্ডলীতে প্রতিটি ঘটনার পূর্বাভাস এই নয়টি গ্রহের রাশি, ভাব এবং বলের বিচার করেই করা হয়।

প্রত্যেকটি গ্রহ নির্দিষ্ট কিছু বিষয়ের কারক হিসেবে কাজ করে — যেমন সূর্য আত্মা এবং পিতার কারক, চন্দ্র মন এবং মাতার কারক, বৃহস্পতি জ্ঞান ও সম্পদের কারক, এবং এইভাবেই বাকিদের ভূমিকা নির্ধারিত। প্রতিটি গ্রহ এক বা দুটি রাশির অধিপতি, কোনো এক রাশিতে ুচ্চ এবং অন্য রাশিতে নীচ হয় এবং অন্যান্য গ্রহদের সাথে এদের মিত্রতা বা শত্রুতা থাকে। গ্রহের বিংশোত্তর দশা নির্দিষ্ট করে দেয় যে, জীবনের কোন সময়ে সেই গ্রহের ফল প্রকাশ পাবে।

একনজরে ৯টি গ্রহ

শুভ এবং অশুভ গ্রহ

গ্রহদের প্রধানত স্বাভাবিক শুভ বা অশুভ হিসেবে ভাগ করা হয়। বৃহস্পতি, শুক্র, শুক্লপক্ষের চন্দ্র এবং শুভ সংযোগপ্রাপ্ত বুধ হলো শুভ গ্রহ; অন্যদিকে সূর্য, মঙ্গল, শনি, রাহু, কেতু এবং কৃষ্ণপক্ষের চন্দ্র হলো অশুভ বা পাপ গ্রহ। তবে এটি কেবল প্রাথমিক ধারণা মাত্র — আপনার লগ্নের সাপেক্ষে গ্রহটি কোন ভাবের অধিপতি, তার দশা (উচ্চ, স্বরাশি বা নীচ) এবং অন্যান্য গ্রহের সাথে তার সংযোগের ওপর ভিত্তি করেই গ্রহটির প্রকৃত প্রভাব নির্ধারিত হয়।

গ্রহের দশা — উচ্চ, স্বরাশি এবং নীচ অবস্থা

একটি গ্রহ যখন উচ্চ, স্বরাশি অথবা মূলত্রিকোণ রাশিতে থাকে, তখন এটি তার পূর্ণতম এবং বিশুদ্ধতম ফল প্রদান করে; আর নীচ রাশিতে থাকলে তা দুর্বল হয়ে পড়ে। গ্রহের এই শক্তির আনুষ্ঠানিক পরিমাপ করা হয় 'ষড়বলা'র মাধ্যমে। কোনো গ্রহের উচ্চ-নীচ দশা, মিত্রতা এবং প্রতিকার জানতে নিচে সংশ্লিষ্ট গ্রহটির ওপর ক্লিক করুন।

গ্রহ, রাশি এবং নক্ষত্র

প্রত্যেকটি গ্রহ ১২টি রাশির মধ্যে এক বা দুটি এবং ২৭টি নক্ষত্রের মধ্যে তিনটি রাশির অধিপতি হয় এবং যে ভাবে অবস্থান করে তার মাধ্যমে ফল প্রকাশ করে। গ্রহের সাথে তার রাশি, ভাব এবং নক্ষত্রের বিচারই জ্যোতিষশাস্ত্রকে সাধারণ পূর্বাভাস থেকে ব্যক্তিগত ও সঠিক গণনায় পরিণত করে।

সাধারণ জিজ্ঞাসা সমূহ

নবগ্রহ — সূর্য, চন্দ্র, মঙ্গল, বুধ, গুরু, শুক্র, শনি এবং দুটি চন্দ্র-নোড রাহু ও কেতু। এখানে সূর্য এবং চন্দ্রকেও গ্রহ হিসেবে গণ্য করা হয়, তবে ইউরেনাস, নেপচুন এবং প্লুটোর মতো বহিঃগ্রহগুলো শাস্ত্রীয় বৈদিক জ্যোতিষশাস্ত্রের অন্তর্ভুক্ত নয়।

এগুলি হলো চন্দ্র ও সূর্যের কক্ষপথের পরস্পর ছেদবিন্দু — অর্থাৎ চন্দ্রের নোড বা সন্ধিস্থল। যেহেতু এগুলির কোনো জাগতিক শরীর নেই, তাই এদের ছায়া গ্রহ বলা হয়। রাহু (উত্তর নোড) উচ্চাকাঙ্ক্ষা, মোহ এবং বৈদেশিক বিষয়ের ইঙ্গিত দেয়; অন্যদিকে কেতু (দক্ষিণ নোড) বৈরাগ্য, আধ্যাত্মিকতা এবং পূর্বজন্মের কর্মফলের প্রতীক।

গ্রহের শক্তি ষড়বলা (ছয় প্রকার শক্তি) এবং তার দশা বা মর্যাদার মাধ্যমে পরিমাপ করা হয় — উচ্চস্থ বা স্বরাশির গ্রহ শক্তিশালী হয়, আর নীচস্থ গ্রহ দুর্বল হয়। প্রতিটি গ্রহের রাশি, ভাব, মর্যাদা এবং শক্তি জানতে আপনার বিনামূল্যে জন্মকুণ্ডলী তৈরি করুন।